শুভাকাঙ্ক্ষীরা অনেকসময় জিগ্যেস করেন। হেটার্সদের সব লজিকের শেষ লজিক, মেধাবীদের শেষ মেধার চিহ্ন পত্রিকার কিছু স্ক্রীনশট দেখে এর কাউন্টারে অনুরাগীরা কিছু বলতে চান। এজন্য এটা লেখা, এ ছাড়া কোন প্রয়োজন ছিল না। অনুরাগীদের কৈফিয়ত লাগে না, আর নিন্দুকের কাছে কোন কৈফিয়ত টেকে না। কেউ নিন্দুকদের প্রচার দেখলে এই লেখার লিংক দিয়ে দিতে পারেন।

২০২০ সালের মার্চ থেকে করোনা মহামারি বাংলাদেশে আছড়ে পড়ে। ২০২০ এর মার্চে তখন মোটামুটি পুরো দেশ আতঙ্কে। মসজিদে জামাত হবে কিনা, হলে সর্বোচ্চ কতজন হবে সেটা নিয়ে আলাপ চলছে। সব মসজিদে এক হাত গ্যাপ দিয়ে দাঁড়ানোর নিয়ম চালু হয়েছে। বাসে দুই সিটে একজন বসছে। সকল সিরিয়ালে ১ হাত দূরত্ব। ৫টাকার মাস্কের দাম তখন ৫০টাকা। একটু ভাল মাস্ক ৩০০টাকা। তাও পাওয়া যাচ্ছে না।

নানান জল্পনা কল্পনা ছড়াচ্ছে অনলাইনে। কেউ ভয় দেখাচ্ছে, ঢাকায় রাস্তাঘাটে মানুষ মরে পড়ে থাকবে। কবর দেবারও লোক পাওয়া যাবে না। কেউ আবার বলছে, গরম পড়লে বৃষ্টি হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। প্রতিদিন ১০-১২ জন করে মারা যাচ্ছে, অধিকাংশই বয়স্ক, যুবক বয়সীও কিছু আছে। কোনো ভ্যাক্সিন তখনও আসেনি, আসার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছেনা। মোটকথা, ভালো আতঙ্ক বিরাজ করছে চারদিকে। হাজারে হাজারে পরিবার ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে এসেছে। করোনার শুরুর দিকে, ২০২০ সালের মার্চ মাস।

তখনও আমরা হাসপাতালে ডিউটি করছি। নার্সরা ভয় পাচ্ছে, জ্বর-কাশির রুগী ভর্তি না দিতে অনুরোধ করছে। ইনজেকশনের বদলে মুখের ওষুধ দিতে বলছে যাতে কাছে যেতে না হয়। আমরা আউটডোরে রুগী দেখছি, ভর্তি রুগী রাউন্ডে দেখছি। দুর্লভ মাস্ক একটা কিনতে পেরেছিলাম, তাই দিয়ে। আজব সময় সেটা। ব্যাংক কর্মকর্তারা পিপিই (বিশেষ পোশাক) পেয়েছে, আমরা ডাক্তাররা পাইনি। ওভাবেই রুগী দেখছি। দেখে  ডিরেক্ট বাসায় যাচ্ছি: সেখানে ২ বছরের মেয়ে, গর্ভবতী স্ত্রী। আর আমি নিজে ৩০ বছর পুরনো এজমার রুগী।

সেই সময়টা এখনকার মত এত সহজ ছিল না। আজ যারা ঐ নিউজের স্ক্রীনশট দিয়ে ট্রল করে, তারা ঐসময় কী করছিল একটু মনে করুক। লকডাউনে ঘরেই বসে ছিল। আর এখন অভিযোগ করছে কেন আমি সেবা দিলাম না। নিজে নিরাপদে থাকবে, আর অন্যেরা কেন তার জন্য ঝুঁকি নিচ্ছে না, অভিযোগ করবে। শুরুর দিকের থমথমে ভয়াবহ পরিস্থিতি আসলে এমনই ছিল।

ঢাকায় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে তখন ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন ইত্যাদি দিয়ে করোনা শনাক্ত রুগীকে চিকিৎসা দেয়া চলছে। করোনাতে প্রচুর প্রেসারে অক্সিজেন লাগে, হাই-ফ্লো। সেখানে যেসব ডাক্তার ডিউটি করে তাদের বিশেষ ঝুঁকিভাতা, ৭ দিন ডিউটি এরপর ৭ দিন কোন হোটেলে আইসোলেশন এরপর ৭ দিন পরিবারের কাছে, এভাবে। ৭ দিন লাগে করোনা ভাইরাস মরতে। মানে সরাসরি ডিউটি থেকে পরিবারের কাছে জীবাণু নিয়ে যাবে না। ৭ দিন আলাদা থেকে তারপর যাবে।

সেখানে হঠাৎ আমার ফুটেজখোর বস সিদ্ধান্ত নিল: উপজেলা হাসপাতালে করোনা রুগী ভর্তি নিবে। নার্স থেকে নিয়ে সবাই প্রতিবাদ করল। আমি ছিলাম আরএমওর পর সবচেয়ে সিনিয়র। আমাকে বেশ ভাল ভূমিকা নিতে হল। মিটিংয়ে বললাম: স্যার, আমাদের ২টা অক্সিজেন সিলিন্ডার, অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেই, হাইফ্লো অক্সিজেন নেই। এখানে করোনা রুগী ভর্তি দেয়া আর মেরে ফেলা সমান। উল্টো নর্মাল রুগীর চিকিৎসাও ব্যাহত হবে। নার্সরা কাছে যেতে ভয় পাচ্ছে। আমাদের মাস্ক নেই, পিপিই নেই। আইসোলেশনের ব্যবস্থা নেই। সরাসরি জীবাণু নিয়ে ঘরে বউবাচ্চার কাছে যেতে হবে। এগুলোর ব্যবস্থা করেন, আমরা সেবা দিব। এগুলো ছাড়া আপনার এই ডিসিশন আত্মহত্যার মতো, আর অন্যরুগী করোনা রুগী সবাইকে বিনাচিকিৎসায় ফেলে রাখার মতো।

বুধবার মিটিংয়ের ঘটনা এটা। বস চোখ মটকে সবার সামনে বললেন: আরেফীন, বেশি কথা বলছেন, চুপ থাকেন। নার্সরা তখন আমাকে সাপোর্ট দিলেন। সবার বাধার মুখে 'দেশের ১ম করোনা সেবাদাতা উপজেলা হাসপাতাল' ফুটেজটা নিতে পারল না বস। উপরের প্রশংসা, প্রমোশন হাতছাড়া হবার রাগ পুষে রাখল।

বৃহস্পতিবার সকালে যেসব রুগী আমি দেখলাম, তাদের কয়েকজন করোনা পজেটিভ হল। আমি সাথে সাথে আমার পরিবার গ্রামে রেখে আসার সিদ্ধান্ত নিলাম। করোনায় সবচেয়ে হাইরিস্ক হল গর্ভবতী নারী, বয়োবৃদ্ধ লোক আর শ্বাসের রোগ যাদের। স্ত্রী তখন ৭ মাসের গর্ভবতী, মেয়ের বয়স ২। সে হিসেবে আমি নিজেও হাইরিস্ক ব্যক্তি, পকেটে ইনহেলার সবসময়, শীতকালে ইনজেকশন নেয়া লাগে, ইনহেলার-নেবুলাইজে হয় না। শুক্রবার মাইক্রোবাস নিয়ে বউ-কন্যাকে রাখার জন্য গ্রামে আসলাম। টেনশনেই হোক আর মালপত্র টানাহেঁচড়ার কারণেই হোক, এজমা এট্যাক হল। ভাবলাম হাসপাতালে তো এখন ডাক্তারের অভাব নেই (৩৯ বিসিএস এর নতুন অনেক ডাক্তার), আমার ডিউটিও নেই এখন। পরেরদিন শনিবার অফিস কামাই দিই। পরের দিনও শরীরও ভাল না, আমার রোস্টার ডিউটিও নেই।

ওমা, শনিবার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় থানা থেকে ফোন। আপনার নামে স্থানীয় পেপারে নিউজ হয়েছে আপনি নিখোঁজ। কোথায় আপনি? শুক্রবার আমি সপরিবারে মুভ করেছি এই খবর শনিবারের পেপারে কীভাবে?

[পরদিন রবিবার জাতীয় দৈনিকে আসে খবর। তখন অলরেডি থানার সাথে আমার কথা হয়েছে।]

মানে অফিসিয়ালি আমি ১ দিন অনুপস্থিত।  বিধি মোতাবেক আমাকে শোকজ করার কথা, তা না করে সরাসরি পেপারে? পরে জানলাম, আমার বস কাজটা করিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক দিয়ে। চমকপ্রদ খবর বলে জাতীয় দৈনিকগুলো হুবহু পিক করেছে, ছবিও দিয়েছে যেন মনে হয় নিখোঁজ হয়ে জঙিদলে গিয়ে ভিড়েছি।

আমার সহকর্মীরা এর প্রতিবাদ করেন। আমার ফোন খোলা, তাদের সাথে আমার বার বার যোগাযোগ হচ্ছে। আর খবরে বলা হল আমি নিখোঁজ, নিরুদ্দেশ। মানে ইনিশিয়াল ফ্রেমিংটা ছিল আমাকে বিপদে ফেলার জন্য।

আমার সহকর্মী ডা. সজীব ভাইয়ের বক্তব্য

কলিগদের কাছে শুনেছি, পরেও বস ফ্লেক্স নিতেন: আরেফীনকে দেখেছো, আমি কিন্তু শোকজ করিনা, সরাসরি পেপারে ছবি তুলে দেই। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে হাসিনা আমলে এমন অনেক কিছুই তিনি করেছেন। বয়স্ক নার্সদের পাহাড়ী এলাকায় পোস্টিং করিয়ে টাকা নিয়েছেন সেটা রদ করতে। আমার এই ঘটনা নিষ্পত্তি করতে অন্য একজনকে অতিরিক্ত সচিব সাজিয়ে দ্রুত ৪০ হাজার টাকা চাইয়েছেন, আরেকটু হলে দিয়ে দিতামও।

[দেখুন এই প্রথম নিউজে 'করোনার ভয়ে' কথাটা নেই।  কয়েকটা মিথ্যা কথা: বৃহস্পতিবার থেকে নিখোঁজ না, বৃহবার সকালেও আউটডোরে রুগী দেখেছি। মোবাইল বন্ধ না, থানার ফোন তো ধরেছি। বস আমাকে ফোনই করেনি, তার উদ্দেশ্য আমার ১ দিনের অনুপস্থিতিকে জাতীয় পত্রিকায় তুলে দেয়া। তিনদিন নিখোঁজ না, শুক্রবার ছুটি, শনিবার ১ দিন অনুপস্থিত, ঐদিনই লোকাল পত্রিকায় নিউজ। মানে নিউজের আগে আমি আসলে কয়েকঘণ্টা এবসেন্ট, ঐদিন নাইট থাকলেও সকালে অফিস করতাম না, মানে এটা নর্মাল যে কিছু ডাক্তার সকালে থাকবে না। ]

এই বসের সাথে আমার বেশ আগে থেকেই সমস্যা চলছিল। ইজতেমার জন্য ৩ ছুটি চাইলে দিতে চাননি, অথচ তখন ৩৯ বির্সিএস-এর ৯ জন নতুন ডাক্তার আছে হাসপাতালে। সেখান থেকে শুরু। এজন্য পত্রিকায় সে আমার ব্যাপারে একথাও বলেছে যে, আমার মানসিক সমস্যা আছে। এসব মনোমালিন্যের জন্য আমি বদলির চেষ্টাও করছিলাম (বদলিটা হয়েছিল বলে আমি অনেক পরে জানতে পারি, ততদিনে দেরি হয়ে গেছে)।

পরে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম এই বসের অধীনে আমি আর চাকরি করব না। আর কর্মস্থলে সবাই জানে আমি নিখোঁজ, এটা একটা লজ্জার ব্যাপারও মনে হয়েছে। প্লাস অসুস্থতা তো ছিলই। ৭ দিন আইসোলেশনে ছিলাম আলাদা বাসায়। টেস্ট নেগেটিভ এলেও ফুল সিম্পটম ছিল (ফলস নেগেটিভ আসে বহু), বাসায় অক্সিজেন সিলিন্ডারও এনেছিলাম। সুস্থ হবার পর কিছুটা লজ্জা, কিছুটা রাগ মিলিয়ে আর চাকরি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এই হল ঘটনা।

অসুস্থতার ছুটি নেয়া সম্ভব ছিল না। এক তো বসের সাথে মনোমালিন্য। আর দুই ঐ সময় ডাক্তারদের সকল ছুটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। আমার ব্যক্তিগত রোগের জন্য আলাদা কোন ছাড় ছিল না। ছুটি পেতাম না। আমাদের চাকরির পরিভাষায় অ-অনুমোদিত অনুপস্থিতিকে 'পলায়ন' (desertion) বলে। সে হিসেবে এটা পলায়নই। কিন্তু পেপারে যে মুখরোচক শব্দবন্ধ ' করোনার ভয়ে রুগী রেখে পালিয়ে গেলেন', এটা হাস্যকর। ভাবটা এমন রুগী আর আমি হাওয়া খেতে গিয়েছিলাম, তাকে রেখে পালিয়ে এসেছি। রুগী রেখে কীভাবে পালায় ভাই? রুগীকে দেখার পর: ওরে বাবারে বলে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছি, ভাবতে বেশ হাসি পেয়ে যাচ্ছে। এসব শিরোনাম পাবলিক খায়ও। ভয়ই যদি থাকত, তাহলে ২০১৯ নভেম্বর থেকে ২০২০ মার্চ মাস পুরোটা, ৪ মাস জ্বরকাশির রোগীদের সেবা দিলাম কীভাবে?

এসব পত্রিকাগুলো আমার কথাকে বিকৃত করে ছেপেছে। আমি যে অব্যবস্থাপনা, সরঞ্জামের অভাব এসব অভিযোগ করেছিলাম, যা ছাড়া চিকিৎসা দেয়া আত্মহত্যার শামিল, সেসব কথা তারা এভয়েড করেছে, বা বললেও এক শব্দে কাজ সেরে দিয়েছে। পিপিই ছাড়া আমি জীবনের ঝুঁকি নেব, আমার পরিবার কী পাবে আমার কিছু হলে? এসব প্রশ্ন রেখেছিলাম, যা তারা ছাপেনি।

১ বছর ৮ মাস পর এক কলিগ জানাল: ভাই আসেন, ঐ বস বদলি হয়ে গেছে। অফিসে গিয়ে কারণ দর্শানো দরখাস্ত দিয়ে এলাম। কয়েক মাস পর মন্ত্রণালয় থেকে যোগদানের অনুমতি সাথে চাকরির মামলা (ডিপি) দায়ের হল। বসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে নাকি উল্টো ফল হয়। তাই সব দায় নিজের ঘাড়ে নিয়ে অসুস্থতা দেখিয়ে দরখাস্ত করলাম। ২০২১ সালের আবেদন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে নিষ্পত্তি হয়েছে। আমাকে সকল অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বিঃদ্রঃ ঐ ১ বছর ৮ মাস সরকারি কোন বেতন-ভাতা বন্ধ ছিল।

অভিযোগ থেকে অব্যাহতি

আমি আদর্শগতভাবে যাদের বিপরীতে অবস্থান করি, তাদের সবাই এই নিউজটাকে গত ৬ বছর আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে। নাস্তিক, সেক্যুলারিস্ট, লীগ, জামাত-শিবির, এমনকি কিছু কওমী-তাবলীগীরাও। আমার বিরুদ্ধে এটাই তাদের শেষ আশ্রয়। যুক্তিতর্কে কোনোভাবেই যখন পেরে ওঠে না, তখন ব্যক্তি আক্রমণের একমাত্র ট্রাম্পকার্ড তাদের এটা। অবশ্য এর দ্বারা তাদের দুর্বল যুক্তি ও দুর্বল আদর্শই প্রমাণ হয় বার বার।

মৃত্যুভয় তো সবার আছে। আমল স্বল্প, গুনাহের পাল্লা ভারি। মরতে কনফিডেন্স পাই না। তবে এতটাও ভীতু নই যে সত্য বলতে সত্যের পক্ষে অবস্থান নিতে ভয় পাব। হাসিনা আমলে 'আমিও শিবির' ক্যাম্পেইন চালিয়েছি, ঘোর ফ্যাশিবাদের সময়ও চিৎকার করে শরীয়াহর কথা বলেছি, গোয়েন্দাদের দোযখের ভয় দেখিয়েছি। জুলাইয়ে টেলিগ্রামে সক্রিয় থেকেছি (জুলাইয়ের শেষ ১৫ দিনে টেলিগ্রামে ফলোয়ার বেড়েছে ২০ হাজার +)। তবে চাই মৃত্যুটা আল্লাহর দীনের জন্য হোক, শত্রুর রক্ত মেখে সেজে আল্লাহর সাথে দেখা করতে চাই। অথর্ব পলিটিশিয়ান আর পঙ্গু ব্যবস্থাপনার বলি হতে চাই না। এটা আমার মৃত্যুচিন্তা, দ্বিমত করতে পারেন।

পরিশেষে, শুভাকাঙ্ক্ষীদের বলব: এসবে কষ্ট পাবেন না। আমার বিশেষ কোন যোগ্যতা নেই। না ইলম আছে, না আমলের ইস্তেকামাত। আমি আর দশজন সাধারণ মুসলমানের মতোই পাপী মুসলমান। আল্লাহ মায়া করে কিছু কাজ নেন, তাই আপনারা চেনেন জানেন। আপনাদের দুআ ভালবাসাই আমার জ্বালানি। আপনাদের দুআর কারণে আল্লাহ আমাকে দিয়ে কাজ নেন। যা যা কমতি আছে, তা মাপ করে আল্লাহ যেন আমার অশ্রু-ঘাম-রক্ত-হাড়-মাংস দিয়ে দীনের কাজ নিতে থাকেন, এই দুআ কখনও থামাবেন না।