মা-বাবার চাচাতো-ফুফাতো-মামাতো-খালাতো ভাই/বোনের ছেলে-মেয়েদের বিয়েকে (second cousin) বলা হয় consanguineous marriage. এর ভিতরে আপন চাচাতো-ফুফাতো-মামাতো-খালাতো ভাইবোনের (first cousin) বিয়েও পড়ে। মানে ফার্স্ট ও সেকেণ্ড কাজিনের সাথে বিয়েকে Consanguineous marriage বা ‘নিকটাত্মীয়ের মাঝে বিয়ে’ বলা হয়। কিছু বিশেষ জন্মগত অসুখ আছে (autosomal recessive disorders), যেগুলো এমন বাবা-মায়ের সন্তানদের হতে পারে।
তবে এই রিস্ক এর পরিমাণ কেমন? যেমন ফার্স্ট কাজিন বিয়ের ক্ষেত্রে এসব অসুখের রিস্ক ১.৭% থেকে ২.৮% বেশি। মানে খুব বেশি না। আবার জন্মত্রুটির কোনো রিস্কই নাই, এমনও রিসার্চ এসেছে। মৃত শিশু জন্মের সম্ভাবনা ১.৭ গুণ বেশি। শিশুমৃত্যু স্বাভাবিকের চেয়ে ১.১% বেশি। [1]
মূলত এর কারণ হল একই পূর্বপুরুষে যদি কোনো ত্রুটি থাকে, তা জিনের মাধ্যমে মা-বাবা দুজনের কাছ থেকেই পেয়ে এই শিশুতে আবার শক্তিশালী হয়ে যায়, যেহেতু দাদা-নানা লেভেলে বা বাপ-মা’র দাদা-নানা লেভেলে গিয়ে জিন সেই একজনেরই। আরেক রিসার্চে এসেছে, সেকেন্ড কাজিনে যে রিস্ক, আর অনাত্মীয়দের বিয়েতে যে রিস্ক, একই রিস্ক, পার্থক্য নেই[2]।
তবে উচ্চরক্তচাপ, সিজোফ্রেনিয়া, হৃদরোগ, ডায়বেটিস, অটিজম, ক্যান্সার— এসব অসুখের সাথে পারিবারিক ইতিহাসের (familial predisposition) একটা সম্পর্ক আছে। ফলে নিকটাত্মীয় বিয়ের সাথে এগুলোরও একটা সম্পর্ক থাকতে পারে, যদিও এমন স্পষ্ট রিসার্চ এখনও অপ্রতুল। সুতরাং, ফার্স্ট কাজিন বিয়েতে সামান্য রিস্ক রয়েছে।
উমার রা. এর একটা আসার পাওয়া যায়: নিজ আত্মীয় স্বজনদের বিয়ে করো না। কারণ, এক্ষেত্রে দুর্বল সন্তানের জন্ম হয়।’ [আল মুগনি আন হামলিল আসফার লিল ইরাকি-২/৪২]
করলে যে অনেক বেশি সমস্যা, গবেষণা সেটাও বলে না। তবে সম্ভব হলে পরিহার করা উত্তম।
[1] Hamamy H. (2012). Consanguineous marriages : Preconception consultation in primary health care settings. Journal of community genetics, 3(3), 185–192
[2] Zlotogora, Joël, and Stavit A Shalev. “The consequences of consanguinity on the rates of malformations and major medical conditions at birth and in early childhood in inbred populations.” American journal of medical genetics. Part A vol. 152A,8 (2010): 2023-8.